আপনি যদি মহিলা হন, বয়স ২৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হন, সরকারি বেতনভোগী কর্মচারী বা পেনশনভোগী না হন, এবং আয়কর না দেন – তাহলে আপনি সম্ভবত যোগ্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিদ্যমান উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬ এ স্থানান্তরিত হবেন । নতুন আবেদনকারীরা ১লা জুন ২০২৬ থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬ টেবিল
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| সংস্থা | নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| প্রকল্পের নাম | অন্নপূর্ণা যোজনা (সাধারণ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নামে পরিচিত) |
| মাসিক সহায়তার পরিমাণ | ৩,০০০ টাকা প্রতি মাসে প্রতি যোগ্য মহিলা |
| পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিমাণ | ১,৫০০ টাকা (সাধারণ/ওবিসি), ১,৭০০ টাকা (এসসি/এসটি) – ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বৃদ্ধিকৃত |
| প্রয়োজনীয় যোগ্যতা | মহিলা, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, বয়স ২৫–৬০ বছর, সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগী নন, আয়কর প্রদানকারী নন |
| অর্থ প্রেরণের মাধ্যম | ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে আধার-যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে |
| চালু হওয়ার তারিখ | ১লা জুন ২০২৬ |
| আবেদন শুরু | ১লা জুন ২০২৬ (নতুন আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন পোর্টাল) |
| অফিশিয়াল পোর্টাল | https://socialsecurity.wb.gov.in/login |
| হেল্পলাইন | এখনও সরকারিভাবে ঘোষিত হয়নি (ভুয়ো নম্বর থেকে সাবধান) |
বিজ্ঞপ্তি সূত্র: ২০২৬ সালের ১৯শে মে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্পের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এটি ২০২৬ সালের ১১ই মে নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকে ঘোষিত হয়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উপস্থিত ছিলেন।
আমি বিগত বহু বছর ধরে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি অনুসরণ করে আসছি। কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-এর মতো জরুরি ভিত্তিতে ও এত বড় পরিসরে খুব কম প্রকল্পই চালু হতে দেখেছি। আমরা বলছি প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে — এটা কোনও সামান্য ব্যাপার নয়। এটা আপনার সংসারের বাজার খরচ, আপনার সন্তানের পড়াশোনার খরচ। এটা আত্মনির্ভরতার পথ। সরকার ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি যাচাই অভিযান শুরু করে দিয়েছে উপভোক্তা তালিকা পরিষ্কার করতে — এই গতি ও তৎপরতা আমি আগে কখনও দেখিনি।
আমার পরামর্শ: শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। পোর্টাল খুলছে ১লা জুন। আপনার নথিপত্র এখনই গুছিয়ে রাখুন।
যোগ্যতার শর্তাবলী – আবেদনের আগে যাচাই করে নিন
বয়সসীমা
- ন্যূনতম: ২৫ বছর
- সর্বোচ্চ: ৬০ বছর (আবেদনের তারিখ অনুযায়ী)
- কোনও শ্রেণির জন্যই বয়সে ছাড় নেই — ২৫–৬০ বছর সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
অত্যাবশ্যক যোগ্যতার শর্ত
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিম্নলিখিত সবকটি শর্তই পূরণ করতে হবে:
- আবেদনকারীকে অবশ্যই মহিলা হতে হবে।
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- স্থায়ী সরকারি কর্মচারী (রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) নন।
- সরকারি কোনও উৎস থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান না।
- আয়কর প্রদানকারী নন।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সম্পর্ক
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অন্নপূর্ণা যোজনার প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে সাবধানতার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সক্রিয় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনেক সরকারি প্রকল্পেই স্বাস্থ্যবিমা ও নগদ সুবিধা একসূত্রে গাঁথা থাকে। যদি আপনার কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয় দুয়ারে সরকার শিবির বা ব্লক অফিসে যোগাযোগ করে নবীকরণ করিয়ে নিন।
কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত বিদ্যমান উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হবেন — তবে নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলি বাদে:
- মৃত ব্যক্তি
- স্থানান্তরিত ব্যক্তি
- SIR-2026 চলাকালীন বাদ পড়া ও অনুপস্থিত ভোটার
- খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় তালিকায় বাদ পড়া ব্যক্তি
- রায়ের মাধ্যমে বাদ পড়া ব্যক্তি
- ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় চিহ্নিত ASDD (Absent, Shifted, Dead, or Duplicate)
সরকারি প্রজ্ঞাপনের সঠিক ভাষ্য: “All existing beneficiaries of ‘Lakshmir Bhandar’ scheme shall be migrated to the Annapurna Yojna except the dead, shifted, deleted and absentee electors identified during SIR-2026, deletion in the second list after publication of draft list, deleted after adjudication, ASDD (Absent, Shifted, Dead, or Duplicate) found during voter slip distribution.”
কারা যোগ্য নন?
- স্থায়ী সরকারি কর্মচারী (বেতনভোগী বা পেনশনভোগী)
- আয়কর প্রদানকারী
- ২৫ বছরের নিচে বা ৬০ বছরের উপরে মহিলা
- পশ্চিমবঙ্গের অনধিবাসী
- উপরে উল্লিখিত বাদপড়া শ্রেণিতে চিহ্নিত ব্যক্তিরা
আর্থিক সুবিধার কাঠামো
এটি বেতন নয় — এটি সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প।
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| মাসিক সহায়তা | ৩,০০০ টাকা (সকল যোগ্য মহিলার জন্য সমান) |
| পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিমাণ | ১,৫০০ টাকা (সাধারণ/ওবিসি), ১,৭০০ টাকা (এসসি/এসটি) – ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর |
| অর্থ প্রেরণের মাধ্যম | ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে আধার-যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে |
| অতিরিক্ত সুবিধা | ১লা জুন ২০২৬ থেকে রাজ্য সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত |
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬ নির্বাচন প্রক্রিয়া – ধাপে ধাপে
এখানে কোনও লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ নেই। সম্পূর্ণরূপে যোগ্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে নির্বাচন হবে।
প্রথম ধাপ: স্বয়ংক্রিয় স্থানান্তর (বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তা)
- BLO এবং গ্রাম পঞ্চায়েত আধিকারিকদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম যাচাই করা হচ্ছে।
- যাচাই ও ডেটাবেস পরিষ্কারকরণ ২৫শে মে ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে।
- যোগ্য নামগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হবে — নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই।
- ভবিষ্যতে মৃত ও স্থানান্তরিত উপভোক্তাদের নাম নিয়মিতভাবে বাদ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: নতুন আবেদন (নতুন আবেদনকারী)
- ১লা জুন ২০২৬ থেকে https://socialsecurity.wb.gov.in/login-এ অনলাইন পোর্টাল চালু হবে।
- আবেদনকারীরা আধার, বসবাসের প্রমাণ, ব্যাংকের বিবরণ ও অন্যান্য নথি জমা দেবেন।
- আবেদনগুলি অনুমোদিত সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা তদন্ত করা হবে (গ্রামীণ এলাকায় BDO, শহরাঞ্চলে SDO, কলকাতায় KMC আধিকারিক)।
তৃতীয় ধাপ: অনুমোদন ও অর্থ প্রদান
- জেলায় জেলাশাসক (District Magistrate) আবেদন অনুমোদন করবেন।
- কলকাতা পুরসভা এলাকায় KMC কমিশনার অনুমোদন করবেন।
- অনুমোদিত হলে DBT-র মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা জমা হবে।
| ধাপ | কে সম্পাদন করবেন | সময়সীমা |
|---|---|---|
| স্থানান্তর যাচাই | BLO, গ্রাম পঞ্চায়েত আধিকারিক | ২৫ মে ২০২৬-এর মধ্যে |
| নতুন আবেদন তদন্ত | BDO (গ্রামীণ), SDO (শহর), KMC আধিকারিক (কলকাতা) | ১ জুন ২০২৬ থেকে |
| চূড়ান্ত অনুমোদন | জেলাশাসক / KMC কমিশনার | চলমান |
জেলাভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি সন্ধ্যায় মুখ্যসচিবের কাছে জমা দেওয়া হচ্ছে, যাতে সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা যায়।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬ আবেদন ও ডাউনলোড
- অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন: নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের ১৯শে মে ২০২৬ তারিখের আদেশ দেখুন। সম্পূর্ণ PDF এখনও আপলোড হয়নি।
- অনলাইনে আবেদন / স্ট্যাটাস চেক: https://socialsecurity.wb.gov.in/login
- DBT (আধার-ব্যাংক) লিঙ্কিং চেক করুন: https://www.npci.org.in/ (Bharat Aadhaar Seeding Enabler-এ যান)
- সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন: ১৯৩০
- কোনও অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ নেই। প্লে-স্টোর বা অন্যত্র “Annapurna Bhandar App” দাবি করা যে কোনও অ্যাপ ভুয়ো।
কীভাবে আবেদন করবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬ – ধাপে ধাপে
আপনি যদি নতুন আবেদনকারী হন (ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা নন), তাহলে এই ধাপগুলি অনুসরণ করুন।
ধাপ ১: নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন
স্ক্যান করা বা পরিষ্কার ফটোকপি রাখুন:
- আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র
- বসবাসের প্রমাণ (রেশন কার্ড / বিদ্যুতের বিল / ডোমিসাইল সার্টিফিকেট)
- ব্যাংক পাসবুক (প্রথম পাতা যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড আছে)
- আয় শংসাপত্র (প্রয়োজন হতে পারে, যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে এখনও নথির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হয়নি; আয়করদাতা নন — এই স্বঘোষণার জন্য প্রস্তুত থাকুন)
- একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আমার পরামর্শ: এখানেই বেশিরভাগ মহিলা আটকে যান — ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকতে হবে। ধরে নেবেন না যে লিঙ্ক আছে। এখনই NPCI পোর্টালে (কুইক লিঙ্ক দেখুন) বা ব্যাংক শাখায় গিয়ে চেক করুন।
ধাপ ২: অফিশিয়াল পোর্টালে যান
১লা জুন ২০২৬ বা তার পরে https://socialsecurity.wb.gov.in/login-এ যান।
ধাপ ৩: রেজিস্ট্রেশন / লগইন
- নতুন ব্যবহারকারী: “Register”-এ ক্লিক করে মোবাইল নম্বর দিন। OTP আসবে।
- বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ব্যবহারকারী: আগের ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে লগইন করতে পারবেন।
ধাপ ৪: আবেদনপত্র পূরণ করুন
লিখুন:
- ব্যক্তিগত বিবরণ (নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা)
- আধার নম্বর
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC)
- আয়করদাতা নন — এই স্বঘোষণা
ধাপ ৫: নথি আপলোড করুন
প্রয়োজনীয় সমস্ত নথির পরিষ্কার ছবি বা PDF আপলোড করুন। ঝাপসা আপলোড = আবেদন বাতিল। তাড়াহুড়ো করবেন না।
ধাপ ৬: সাবমিট করুন ও রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন
সাবমিট করার পর একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর পাবেন। স্ক্রিনশট নিন। লিখে রাখুন। স্ট্যাটাস চেকের জন্য এটি দরকার হবে।
ধাপ ৭: যাচাই ও অনুমোদন
সরকারি আধিকারিকরা (BDO/SDO/KMC) আবেদন যাচাই করবেন। জেলাশাসক বা KMC কমিশনার অনুমোদন করলে নাম উপভোক্তা তালিকায় উঠবে এবং টাকা পাঠানো শুরু হবে।
দুয়ারে সরকার শিবির, ব্লক অফিস ও পুর অফিসগুলিতেও অফলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে। তবে মন্ত্রী নিজে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের উপর জোর দিয়েছেন। অফলাইন পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে চূড়ান্ত নির্দেশিকার অপেক্ষা করুন।
উপভোক্তা সংক্রান্ত বিবরণ
এটি সর্বজনীন প্রকল্প — কোনও নির্দিষ্ট “শূন্যপদ” নেই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি যোগ্য মহিলাই এই সুবিধার অধিকারী।
| শ্রেণি | অবস্থা |
|---|---|
| বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তা | স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত (বাদপড়া হিসেবে চিহ্নিত না হলে) |
| নতুন যোগ্য মহিলা (২৫–৬০ বছর) | ১ জুন ২০২৬ থেকে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন |
| CAA আবেদনকারী / SIR ট্রাইব্যুনালে আপীলকারী | আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য |
| মৃত, স্থানান্তরিত, বাদপড়া, অনুপস্থিত ভোটার | প্রকল্প থেকে বহিষ্কৃত |
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও পরামর্শ
প্রতারণার সতর্কতা – এটি আগে পড়ুন
বাংলা পুলিশ রাজ্যজুড়ে একটি সতর্কতা জারি করেছে: “Annapurna Bhandar প্রকল্পের জন্য এখনও কোনও অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অনলাইন ফর্ম চালু করা হয়নি।” প্রতারকরা ভুয়ো “মিরর” ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যাংকের বিবরণ ও OTP সংগ্রহ করছে। পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলায় ইতিমধ্যেই একাধিক মহিলা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
যে বিষয়গুলিতে সাবধান হবেন:
- ১লা জুন ২০২৬-এর আগে “এখনই আবেদন করুন” দাবি করা কোনও ওয়েবসাইট।
- দ্রুত নথিভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে SMS বা WhatsApp মেসেজ।
- OTP বা ব্যাংকের তথ্য জানতে চাওয়া কেউ।
- একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য লিঙ্ক: https://socialsecurity.wb.gov.in/login
একজন পরামর্শদাতার পরামর্শ
- DBT লিঙ্কিং এখনই চেক করুন। আধার যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, যোগ্য হয়েও টাকা পাবেন না।
- OTP কখনও শেয়ার করবেন না — কেউ সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিলেও না।
- বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তারা: সম্ভবত নতুন করে আবেদন করতে হবে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ও আধার-যুক্ত রাখুন, আর ভোটার স্ট্যাটাস পরিষ্কার আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
- রেশন কার্ডধারীরা (BPL/AAY/PHH) যাচাই প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- প্রথম কয়েকদিন অতিরিক্ত চাপের কারণে পোর্টালে কারিগরি গোলযোগ দেখা দিতে পারে। ধৈর্য ধরুন। প্রকল্প চলমান — “শেষ তারিখ” নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।
- মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস যাতায়াত ১লা জুন থেকে শুরু। পরিবহণ দপ্তর “পিঙ্ক টিকিট” বা জিরো-ফেয়ার টিকিট মডেল বিবেচনা করছে।
- নিয়মিত বাদ দেওয়া: মৃত ও স্থানান্তরিত উপভোক্তাদের নাম চলমান ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত রিপোর্ট করুন, ভবিষ্যতে রিকভারি এড়াতে।
- জেলা নজরদারি: প্রতিদিন মুখ্যসচিবের কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা পড়ছে — এই প্রকল্পটি অস্বাভাবিক কড়া নজরদারিতে চলছে।
- কোনও অফিশিয়াল হেল্পলাইন ঘোষিত হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরা নম্বরগুলিতে বিশ্বাস করবেন না। প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০-তে ফোন করুন।
তথ্যসূত্র ও যাচাইকরণ
- তথ্যের উৎস: নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯শে মে ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপন।
- যাচাই অভিযানের আদেশ: ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের দ্বারা জারিকৃত, PTI দ্বারা ২২শে মে ২০২৬ প্রকাশিত।
- প্রতারণা সতর্কতা: বাংলা পুলিশ দ্বারা জারিকৃত, Times of India দ্বারা ১৪ই মে ২০২৬ প্রকাশিত।
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিমাণ বৃদ্ধি: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর, একাধিক সরকারি সার্কুলার দ্বারা যাচাইকৃত।
- সর্বশেষ আপডেট: ২২শে মে ২০২৬
- তথ্য যাচাইকরণ নোট: আমরা নির্ভুলতার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, তবু আবেদনকারীদের অবশ্যই https://socialsecurity.wb.gov.in/login থেকে অফিশিয়াল PDF ডাউনলোড করে যোগ্যতার শর্তাবলী মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। এটি কোনও সরকারি ওয়েবসাইট নয়।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন (FAQ)
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা যোজনা কি একই জিনিস?
হ্যাঁ। “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” হল জনপ্রিয় নাম; সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে “অন্নপূর্ণা যোজনা”।
আমি ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাই। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবার আবেদন করতে হবে?
না। আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত করা হবে — যদি না SIR-2026 যাচাই প্রক্রিয়ায় মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকেন।
নতুন আবেদনকারীরা কবে থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন?
অনলাইন পোর্টাল ১লা জুন ২০২৬ থেকে socialsecurity.wb.gov.in/login-এ খুলছে।
মোবাইল নম্বর দিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবো?
https://socialsecurity.wb.gov.in/login-এ গিয়ে “Track Application Status”-এ ক্লিক করুন, মোবাইল নম্বর বা আধার নম্বর দিয়ে সার্চ করুন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কি কোনও অ্যাপ আছে যা ডাউনলোড করা যাবে?
না। মে ২০২৬ পর্যন্ত কোনও অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ নেই। যে কোনও অ্যাপ এই দাবি করলে তা ভুয়ো।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্মের জন্য কী কী নথি লাগবে?
আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, বসবাসের প্রমাণ, ব্যাংক পাসবুক, রেশন কার্ড (যদি থাকে), এবং একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। আয় শংসাপত্রও লাগতে পারে; অফিশিয়াল নথির তালিকার জন্য অপেক্ষা করুন।
সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীরা কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
না। স্থায়ী সরকারি কর্মচারী যাঁরা বেতন বা পেনশন পান, এবং আয়কর প্রদানকারীরা, স্পষ্টভাবে বাদ।
